গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী আবাসনের (Permanent Residency) জন্য আবেদনকারী বিদেশি নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক একটি অভিবাসন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক দূর করতে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, স্থায়ী আবাসনের আবেদন প্রক্রিয়াধীন (Under Review) থাকা অবস্থায় অধিকাংশ আবেদনকারীকেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে না।
অন্যদিকে, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসও বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে। ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় সব ধরনের অভিবাসী ভিসা (Immigrant Visa) প্রক্রিয়া মাত্র দুই দিনে সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
ইউএসসিআইএস-এর বিতর্কিত বার্তা ও মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা
গত সপ্তাহে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ‘ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস’ (USCIS)-এর মুখপাত্র জ্যাক চালার এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযানের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের প্রক্রিয়া চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। ‘ব্যতিক্রমী বা অস্বাভাবিক’ পরিস্থিতি ছাড়া এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হবে— এমন বার্তার পর অভিবাসী, মার্কিন নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসন আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) পরিস্থিতি সামাল দিতে জানিয়েছে যে, পূর্বের মূল নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বিভাগটি উল্লেখ করেছে, গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কোনো আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেতে হবে কি না, তা সম্পূর্ণ মামলাভেদে (Case-by-case) নির্ধারণ করার দীর্ঘদিনের ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ অভিবাসন কর্মকর্তাদের রয়েছে।
বর্তমান মার্কিন ব্যবস্থার অধীনে যোগ্য অভিবাসীরা ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (Adjustment of Status) নামক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারেন, যা তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেয়। সাধারণত কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তা বা ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য (ইউএস সিটিজেন) এই আবেদনকারীদের স্পন্সর করে থাকেন। ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশই দেওয়া হয়েছিল এই ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ডিএইচএস-এর নতুন ব্যাখ্যাকে গত সপ্তাহের কঠোর ঘোষণার তুলনায় অনেকটাই নমনীয় ও আশ্বস্তকারী অবস্থান হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে দুই দিনে মিলবে অভিবাসী ভিসা
এদিকে, বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও ভিসা জট কমাতে এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। রোববার (৩১ মে ২০২৬) দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ জুন (সোমবার) থেকে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভিসা প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
দূতাবাস জানায়, “১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সব ধরনের অভিবাসী ভিসা বিভাগের জন্য মাত্র ‘দুই দিনের প্রক্রিয়া’ (Two-day Processing) বাস্তবায়ন করবে।” এই ঘোষণা কার্যকর হওয়ার ফলে ভিসার সাক্ষাৎকার (Interview) এবং আনুষঙ্গিক নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত শেষ হবে। দূতাবাস আরও জানায়, এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীরা দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ভিসা বিভাগের ডিরেক্টরি এবং অভিবাসী ভিসা সেকশনটি দেখে নিতে পারেন।







