বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান প্রথম এফওসি বৈঠকে ভিসা মওকুফে আলোচনা
 

 

বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান প্রথম এফওসি: দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার ও ভিসা মওকুফ চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের তাগিদ

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পররাষ্ট্র দফতর পরামর্শক সভা’ (FOC)। এই ঐতিহাসিক সভার অংশ হিসেবে দুই দেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা মওকুফ চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) সকালে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে প্রথম এফওসি-র ফাঁকে সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে এক দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সাক্ষাৎকালে তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মেগা ইস্যু ও সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর জোর

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের বর্তমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণকে অত্যন্ত পরিমিত বা সীমিত আখ্যায়িত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুবিধার্থে এবং পণ্য, শ্রম ও পরিষেবার কার্যকর গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের শীর্ষ চেম্বার ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়মিত দল বিনিময়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সফররত তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইদিবেক কালান্দার বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পথ সুগম করতে সমঝোতা স্মারক (MoU) বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মতো একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন। এ সময় উভয় নেতাই নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন:

  • বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি।

  • সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও পর্যটন খাতের প্রসার।

  • কূটনৈতিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা মওকুফ চুক্তি

  • দ্বৈত কর পরিহার (Double Taxation Avoidance) চুক্তি।

  • পারস্পরিক বিনিয়োগের প্রচার, সুরক্ষা এবং শিল্প ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা।

সরাসরি বিমান চলাচল ও আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার আলোচনা

দুই দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মানুষে মানুষে যোগাযোগ (People-to-People Contact) বাড়াতে ঢাকা ও দুশানবের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু এবং নিজ নিজ রাজধানীতে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নিজ নিজ দেশে একক বা যৌথ বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা একমত হন।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে পদ্ধতিগত রূপ দিতে দুই দেশের শীর্ষ চেম্বার ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ (JWC) গঠনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন দুই মন্ত্রী। পাশাপাশি, দুই দেশের সংসদীয় কূটনীতি জোরদার ও পার্লামেন্টারিয়ানদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়াতে একটি ‘বাংলাদেশ-তাজিকিস্তান পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ ও এসসিও-তে সমর্থন

আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থনের বিষয়টি বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উঠে আসে। ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ঐতিহাসিক ৮১তম সাধারণ পরিষদের (UNGA) সভাপতির মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করায় তাজিকিস্তান সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান উভয়ই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সমন্বয় আরও গভীর করতে এবং জাতিসংঘ (UN) ও ওআইসি (OIC)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার অনন্য কৌশলগত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়ে বৃহত্তর আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার নিয়ে দুই নেতার মধ্যে গভীর মতবিনিময় হয়। এ সময় সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় (SCO) বাংলাদেশের সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করার জন্য তাজিকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top