লীগ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে ইনসিকিউরিটি- মাহফুজ
 

 

আওয়ামী লীগ প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে চলছে ‘ইনসিকিউরিটি’: ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক এবং সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার (১ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক ভয় ও নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকুরিটি (হীনম্মন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতা)। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ‘৮৬ আর ‘৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা বা সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ‘৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত।”

ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও নতুন প্রজন্মের আসল বিপদ

আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাবেক এই উপদেষ্টা লিখেছেন, “আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরো ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়।”

নতুন প্রজন্মের তরুণদের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা ও পরামর্শ দিয়ে তিনি লেখেন:

“দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেয়ার। যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা, তরিকা থেকে সংগঠিত হোন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। স্বচ্ছল হোন। রাজনীতিতে নয় শুধু, সমাজেও প্রভাব তৈরি করুন। দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তুলুন।”

প্রবীণ নেতাদের কঠোর সমালোচনা: ‘হাটে নিয়ে বিক্রি করেছে’

দেশের প্রবীণ ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে মাহফুজ আলম লেখেন, “বড়দের আসকারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সত্তর ও নব্বইয়ের দশকেও একইভাবে তরুণ প্রজন্মকে ব্যবহার করা হয়েছিল।”

তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন। যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু কেবলা রাখেন জুলাই আর এন্টি-ফ্যাসিজম।”

পোস্টের শেষ অংশে নিজের সাহসিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহফুজ লেখেন, “পুনশ্চঃ আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top