শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার, আত্মসমর্পণ সুযোগ নেই- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
 

 

“শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, বিমানবন্দর থেকেই গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হবে”: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে পলাতক সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ও জুলাই গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার দেশে ফিরে স্বাভাবিকভাবে আদালতে আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে পা রাখামাত্রই তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) রাতে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের তোলা এক জরুরি প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের এই কঠোর ও চূড়ান্ত অবস্থানের কথা সংসদকে অবহিত করেন।

“মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণের নাটক করার সুযোগ নেই”

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক দীর্ঘ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তাঁর নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণের যে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন:

“চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ওখান থেকেই নানা ষড়যন্ত্র করছেন। তবে তিনি ভুলে গেছেন যে, দেশের মাটিতে জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আদালত ইতিমধ্যে তাঁর ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। একজন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির দেশে ফিরে এসে সাধারণ নাগরিকদের মতো আত্মসমর্পণ বা প্রটোকল পাওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে আরও আশ্বস্ত করে বলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) যদি আগামী ডিসেম্বরে বা তার আগে যেকোনো উপায়ে দেশে ঢোকার চেষ্টা করেন, তবে বিমানবন্দর বা সীমান্ত থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাঁকে সরাসরি গ্রেপ্তার করবে। তিনি আইনের চোখে একজন ফেরারি খুনি। ফলে গ্রেপ্তার করে সরাসরি তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে এবং আদালতের দেওয়া ফাঁসির রায় কার্যকরের চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এখানে কোনো আপস বা রাজনৈতিক নাটক করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”

রয়টার্সে দেওয়া শেখ হাসিনার সেই সাক্ষাৎকার ও ভারতের অবস্থান

২৪-এর ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাথে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ফোনে কথা বলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে ফিরবেন এবং আদালতে গিয়ে আইনি লড়াই লড়বেন।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এই ফাঁকা বুলি আসলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মাত্র। সরকার ইতিমধ্যে কয়েক দফা আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে ভারত সরকারকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার জন্য জোর অনুরোধ জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাঁকে ফিরিয়ে এনে দেশের মাটিতে জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। যদিও সংসদের প্রধান বিরোধী দল তাদের নাম না দিয়ে বাইরে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছে, তবে সরকার এই সংসদীয় কমিটির মাধ্যমেই দ্রুত সংবিধানের প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে চায় বলে সংসদ সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top