শেখ হাসিনা এ দেশে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক- তথ্য উপদেষ্ঠা ডা. জাহিদ
 

 

“শেখ হাসিনা এ দেশে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, ডিসেম্বরে এলে স্বাগত জানাব, ফেস করবেন জাস্টিস”: তথ্য উপদেষ্টা

ভারতে অবস্থানরত সাবেক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এ দেশে আছে বলে মনে করেন না অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণের কাছে এক ‘সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক’ মানুষ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (PID) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারের নিয়মিত সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক ঝাঁক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা এসব কড়া মন্তব্য করেন।

“আওয়ামী লীগের পরিচিত মানুষরাও মনে করেন তাঁর ভবিষ্যৎ শেষ”

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং তাঁর রাজনৈতিক পুনরুত্থান নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন:

“শেখ হাসিনার কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এ দেশে আছে বলে আমি বা এ দেশের সাধারণ মানুষ মনে করি না। আর বিষয়টা নিয়ে শুধু আমি একা বা আমাদের সরকারের কথা বলছি না; আওয়ামী লীগের চারপাশে ও ভেতরে আমাদের যেসব পরিচিত মানুষ আছেন, তারাও ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পরিষ্কার মনে করেন যে উনার (শেখ হাসিনার) রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ চিরতরে শেষ হয়ে গেছে।”

ভূ-রাজনৈতিক চাপের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন উপদেষ্টা

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জিওপলিটিক্যাল (ভূ-রাজনৈতিক) চাপ আছে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা দৃঢ়ভাবে বলেন, এখানে জিওপলিটিক্যালি কোনো চাপ বা প্রভাব আছে বলে সরকার মনে করে না।

তিনি বলেন:

“আমরা যাকে নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করছি, তিনি এই মুহূর্তে এ দেশের জন্য একেবারে অপ্রাসঙ্গিক একজন মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবেও মনে করি উনি কোনো প্রাসঙ্গিক কেউ নন। সুতরাং, মিডিয়ায় তাঁর দেশে ফেরার যে সংবাদ বা গুঞ্জন প্রচার করা হচ্ছে, সেটাকে আমি কোনো চাপ বা প্রবলেম (সমস্যা) বলে মনে করি না। আমরা তো শুরু থেকেই চাইছি উনি দেশে ফিরে আসুন। আমরা তো উনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার (প্রত্যাবর্তন) সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও যোগ করেন, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে সরকার চাইছে তিনি ওখানেই থাকুন আর তিনি এখন চলে আসবেন শুনে সরকার চাপে পড়ে গেছে। এই সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যে কনফার্ম (নিশ্চিত) করেছেন যে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব কূটনৈতিক মাধ্যমে ভারতের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

“ডিসেম্বরে এলে স্বাগত, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবী এনে মামলা লড়ুন”

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার খবরের প্রেক্ষিতে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উনার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তিনি আসবেন। উনাকে যদি আমরা বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে প্রত্যর্পণ করে আনতে পারি, সেই চেষ্টাই তো জারি রয়েছে। আর উনি যদি ভারত সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের মাধ্যমে নিজে থেকেই চলে আসেন, তবে সরাসরি আদালতে যাবেন এবং মামলা ফেস করবেন। উনার আসার ব্যাপারে যেহেতু আমরাই চেষ্টা করছি, তাই উনি যদি নিজ দায়িত্বে আসেন, আমরা কিন্তু শুরু থেকেই বলছি আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব।”

আদালতে শেখ হাসিনার আইনি অধিকারের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন:

“আইনি লড়াই ও মামলার বিচারের জন্য বিদেশ থেকে আইনজীবী আনারও পূর্ণ স্কোপ (সুযোগ) রয়েছে। তিনি চাইলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম আইনজীবীও নিজের পক্ষে লড়তে নিয়ে আসতে পারেন। এ দেশের জনগণ শুধু চায় তিনি যে নজিরবিহীন অপরাধ করেছেন, তার জন্য ট্রাইব্যুনাল যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় সেটা যেন বহাল থাকে এবং সেই রায় কার্যকর হোক। আর তিনি যদি আদালতে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অপরাধী নন, তবে আদালত যদি শেষ পর্যন্ত তাঁকে অন্য কোনো শাস্তি দেয় বা খালাস দেয়— জাস্টিস (ন্যায়বিচার) তো এভাবেই হতে হয়।”

তিনি জানান, এ বিষয়ে গত সোমবারই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কথা হয়েছে এবং আইনগত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। রাষ্ট্র ধ্বংসের খলনায়ককে আইনের মুখোমুখি করে দেশে জাস্টিস নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top