ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ, তহবিল সংকট এবং পরাশক্তিগুলোর রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ‘স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (SIPRI)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষীদের সংখ্যা প্রায় ৪৯% হ্রাস পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দাতা দেশগুলোর অর্থ ছাড়ের বিলম্বের কারণে ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এমন প্রতিকূল বৈশ্বিক বাস্তবতার মাঝেও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত অংশীদার। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের জাতিসংঘের সর্বশেষ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশের তালিকায় নেপাল, ভারত ও রুয়ান্ডার পর বাংলাদেশ চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১০টি মিশনে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ৬,৩০০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী (স্টাফ অফিসারসহ) অত্যন্ত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক:
-
যাত্রার সূচনা (১৯৮৮): মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক নিয়ে ইরান-ইরাক (UNIIMOG) মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু।
-
সিয়েরা লিওনে স্বীকৃতি (২০০২): সিয়েরা লিওনের গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটির সরকার ‘বাংলা’কে সম্মানসূচক দাফতরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে।
-
নারী শান্তিরক্ষীদের বিশ্বজয় (২০১৫): হাইতিতে জাতিসংঘের মিশনে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (FPU) পাঠিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করে। বর্তমানেও কঙ্গোসহ বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরা যৌন সহিংসতা প্রতিরোধ ও স্থানীয় নারীদের মনস্তাত্ত্বিক সহায়তায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন।
পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৯ মে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ পালিত হলেও, এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে দিবসটির মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান আগামী ১০ জুন আয়োজিত হবে।







