শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে মির্জা ফখরুল
 

 

শহীদ জিয়ার আদর্শে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সামনে এগোবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ অনুসরণ করেই দল আগামী দিনে দেশের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের টেকসই গণতন্ত্র, নাগরিক অধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শুক্রবার (২৯ মে ২০২৬) স্বাধীন বাংলাদেশের এই মহান রাষ্ট্রনায়কের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী (মৃত্যুবার্ষিকী) উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ও নির্বাচিত সরকার:

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের কাছে সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ ও আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বাসী। দীর্ঘ স্বৈরাচারী দুঃশাসনের পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মৌলিক নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের ভিত মজবুত করতে রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা জরুরি।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং জনগণের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে দেশের সব স্তরের মানুষকে জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল প্রেরণা শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগামীকাল ৩০ মে (শনিবার) সাবেক রাষ্ট্রপতির শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলেও জানান মহাসচিব।

জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদান ও হত্যাকাণ্ড:

বিবৃতিতে জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও বীরত্বপূর্ণ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি দেশের আপামর জনসাধারণের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার অভূতপূর্ব দেশপ্রেম ও আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা সে সময় দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের গভীর অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংঘটিত এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশ একজন মহান দেশপ্রেমিক নেতাকে হারায়।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, কোনো মহান নেতাকে শারীরিকভাবে হত্যা করলেই তাঁর আদর্শকে মুছে ফেলা যায় না; বরং জনগণের মনে তা আরও গভীরভাবে স্থান পায়। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও শহীদ জিয়ার দেখানো পথ ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট:

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভয়ভীতি, চরম দমন-পীড়ন, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত নির্যাতনের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে সীমাহীন দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে; যার চূড়ান্ত ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। ছাত্র-জনতার সেই রক্তস্নাত ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মহান অর্জনকে পূর্ণতা দিতেই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার এবং ক্ষমতার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top