২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীনই ফুটবল কূটনীতিতে এক বড় ধরনের বরফ গলার ঘটনা ঘটলো। বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশেষে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের ওপর আরোপিত কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) থেকে নেওয়া এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের ফুটবল স্কোয়াড তাদের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপ ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগেই ভেন্যু শহরে প্রবেশ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) ওয়াশিংটনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবারের মেগা ম্যাচ খেলেই ছাড়তে হবে আমেরিকা
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মুখপাত্র জানান, ভ্রমণ সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা হলেও কড়া শর্ত বহাল থাকছে। আগামী শুক্রবার (২৬ জুন ২০২৬, বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ২৭ জুন শনিবার ভোর) ওয়াশিংটনের সিয়াটেল স্টেডিয়ামে মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামবে ইরান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই, অর্থাৎ ওই রাতেই ইরানের পুরো দলকে মার্কিন ভূখণ্ড ত্যাগ করতে হবে।
এদিকে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, সিয়াটলের উদ্দেশ্যে রওনা হতে আজ বুধবারই (২৪ জুন) তারা মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অবস্থিত তাদের বর্তমান বেস ক্যাম্প ত্যাগ করছে।
ফিফা টাস্ক ফোর্সের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত
হোয়াইট হাউস ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রিউ গিউলিয়ানি ইরানের ভ্রমণ শিথিলের বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের কৌশল স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন:
“এটা আমাদের দিক থেকে শুরু থেকেই পরিকল্পিত ছিল। প্রথম দুটি ম্যাচের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের আসা-যাওয়া এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কেমন থাকে, তা আমরা খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। যেহেতু প্রথম ধাপের সবকিছু ঠিকঠাক ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তাই খেলোয়াড়দের দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি ও শারীরিক ফিটনেসের কথা বিবেচনা করে আমরা নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
মেক্সিকোতে বেস ক্যাম্প এবং ভিসা জটিলতার ইতিহাস
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই তীব্র চ্যালেঞ্জ ও নানামুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ইরান ফুটবল দলকে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে তাদের জন্য অফিশিয়াল বেস ক্যাম্প নির্ধারিত থাকলেও, কঠোর ভিসা ও ভ্রমণ জটিলতার কারণে বাধ্য হয়ে তারা সীমান্ত পার হয়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরিয়ে নেয়।
এছাড়া ইরানের কারিগরি দলের (সাপোর্ট স্টাফ) বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ফুটবল ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। এমনকি প্রথম দুটি ম্যাচের জন্য নিয়ম করা হয়েছিল—ম্যাচ শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা বা একদিন আগে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ফুটবলারদের জন্য ম্যাচের আগের দিন দীর্ঘ ভ্রমণ করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং কষ্টদায়ক। ফলে স্বাগতিক শহরের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং ম্যাচের পর পর্যাপ্ত রিকভারি ও ফিটনেস ফিরে পেতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
‘জি’ গ্রুপে নকআউটের সমীকরণ: বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ইরান
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নকআউট বা রাউন্ড অব ৩২-এ ওঠার লড়াইয়ে দারুণভাবে টিকে আছে ইরান।
-
প্রথম ম্যাচ: শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা।
-
দ্বিতীয় ম্যাচ: ইউরোপীয় জায়ান্ট বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য (০-০) ড্র করে মূল্যবান ১ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়।
গ্রুপ ‘জি’ (Group G) এর বর্তমান পয়েন্ট টেবিল:
২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে মোহাম্মদ সালাহর মিসর। সমান ২ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে ইরান এবং তিনে বেলজিয়াম। ফলে শুক্রবার সিয়াটেলের মাঠে মিসরের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ইরানের জন্য একপ্রকার ‘অঘোষিত ফাইনাল’। এই ম্যাচে জয় পেলেই কোনো সমীকরণ ছাড়াই সরাসরি বিশ্বকাপের শেষ ৩২ নিশ্চিত করবে পারস্যের প্রতিনিধিরা।







