পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে এক প্রবীণ বাংলাদেশি বৃদ্ধকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধরে নিয়ে যাওয়ার জের ধরে এক ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত পেরিয়ে আসার পর ধরে আটকে রেখেছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। বাংলাদেশি বৃদ্ধকে বিএসএফ ফেরত না দিলে আটকে রাখা ভারতীয় নাগরিককেও ছাড়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ঘটনার বিবরণ ও আটক ভারতীয় নাগরিক
স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়:
-
ভারতীয় নাগরিককে আটক: শনিবার সকালে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে দীপঙ্কর গোপ (৩০) কাঁটাতারের ওপাশের চা-বাগানে কাজ করার সময় একপর্যায়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ধরে এনে পঞ্চগড় সদরের বিরাজোত এলাকায় আটকে রাখেন।
-
বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতি: বর্তমানে ওই ভারতীয় নাগরিক বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয়দের সুরক্ষামূলক হেফাজতে রয়েছেন।
বিএসএফের হাতে প্রবীণ বৃদ্ধ নিখোঁজের পেছনের কথা
এর আগে গত বুধবার সকালে সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. তমিজ উদ্দীন (৭৮) নিজ পালিত গরু খুঁজতে সীমান্ত এলাকায় যান।
তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান:
“আমার বাবা ৭৮ বছরের বয়স্ক একজন মানুষ। তিনি কানে কম শোনেন এবং ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। গরু খুঁজতে গিয়ে তিনি সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি চলে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে যায়। আমরা আমার বাবাকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চাই। আমার বাবাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আটক ভারতীয় নাগরিককেও হস্তান্তর করতে দেওয়া হবে না।”
প্রশাসনের উদ্যোগ ও বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক
উত্তেজনা নিরসনে ও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক পর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া না হলেও দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অপহৃত প্রবীণ তমিজ উদ্দীনকে বাংলাদেশে ফেরত আনা এবং আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপকে হস্তান্তরের বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।







