তীব্র তাপদাহের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির ফলে গ্রামবাংলায় চরম লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলা ও ভাঙচুর থেকে সরকারি সম্পদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুরক্ষায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস ও উপকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর এক বিশেষ পত্র পাঠিয়ে দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-স্টেশন, গ্রিড উপকেন্দ্র ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
চাহিদা ও সরবরাহে ৩ হাজার মেগাওয়াটের বড় ব্যবধান
আইজিপি দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার করুণ চিত্র ও চাহিদার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়:
-
বিশাল গ্রাহক গোষ্ঠী: দেশে বর্তমানে মোট ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহকই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীন। উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশ এই সমিতির মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে গ্রামে-গঞ্জে।
-
বিপুল ঘাটতি: গত কয়েকদিন ধরে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বিদ্যুতের দৈনন্দিন গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫,০০০ থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট।
-
দুর্ভোগ ও ক্ষোভ: চাহিদার বিপরীতে দৈনিক প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে বিতরণকারী সংস্থাটি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আতঙ্ক ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কেবল বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ করে, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনে জড়িত নয়। কিন্তু অব্যাহত লোডশেডিংয়ের মুখে সাধারণ মানুষ বিষয়টি না বুঝে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।
ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে বিক্ষুব্ধ জনতা স্থানীয় উপকেন্দ্র ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় দেশের সাব-স্টেশন ও অফিসে স্থানীয় থানা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত পাহারা ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।







