“একটি চক্র সুকৌশলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়”: ড্যাব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পূর্ববর্তী সরকারের অপরিকল্পিত নানা কর্মকাণ্ড এবং নির্দিষ্ট একটি মহলকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ফলেই দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে এই সংবেদনশীল খাত দুটিকে অস্থিতিশীল করতে এখনো নানা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা রাষ্ট্র ও প্রশাসনে বসে নতুন চক্রান্তে মেতেছে।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি ভবনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকালে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিম গাছের চারা রোপণ ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।

স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক সংস্কার ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা

স্বাস্থ্য খাতের নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের বড় কিছু সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী:
  • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা পৌছে দিতে অতি দ্রুত দেশে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
  • ই-হেলথ কার্ড ও উপজেলা হাসপাতাল প্রবৃদ্ধি: ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সারাদেশে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর কার্যক্রম দ্রুত গতিতে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দেশের সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মহা-পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

পেশাজীবীদের রাজনীতি ও গুণগত পরিবর্তনের আহ্বান

শিক্ষক, চিকিৎসক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন:
“একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবী—সবাই নিজ নিজ রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী সুসংগঠিত থাকতে পারেন। এটি মোটেও অযৌক্তিক নয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজ নিজ পেশাগত মূল দায়িত্ব পালনে কোনোভাবেই বিঘ্ন না ঘটায়। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে প্রথাগত ধারার বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনার একটি শক্তিশালী ও জাতীয় দাবি তৈরি হয়েছে।”

ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রাম

বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জগুলোর কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভেঙে পড়া শিক্ষা ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মতো বিশাল এক ধ্বংসস্তূপ পেয়েছে বর্তমান সরকার। তবে এসব প্রতিকূলতা কাটিয়ে দেশকে সফলভাবে সচল করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top