মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিবৃতি দেওয়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের ওপর কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। অপরাধী ও রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঐতিহাসিক ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪’-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৪০৪ শিক্ষকের ভূমিকা ও বিচার প্রসঙ্গ
বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের কর্মকাণ্ডকে অপরাধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন:
গত তিন দিন আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে ফেরানোর যে চেষ্টা বা অবস্থান নিয়েছেন, প্রশাসন তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, কিন্তু আইন লঙ্ঘন বা অপরাধ করলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে এভাবে অবস্থান নেওয়া কেন এবং এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রদ্রোহিতা জড়িয়ে আছে কি না, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবে।
বিগত সরকারের নিপীড়ন ও ‘৭১ বনাম ‘২৪-এর তুলনা
বিগত আওয়ামী লীগের শাসন আমলের কথা উল্লেখ করে ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন:
শিক্ষকদের ওপর নজরদারি: ফ্যাসিবাদী আমলে সাদা দলের শিক্ষকরা সভা করতে পারতেন না, দলীয় শিক্ষক ও অনুগত প্রশাসনের নজরদারি চলত। তালিকা করে শিক্ষকদের চাকরিচ্যুত ও নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হতো।
৭১ ও ২৪-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে এবং আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। আর ২০২৪ সালে দেশের স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান নিজ দেশের ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছেন। ২০২৪ সালে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পতাকার মান রক্ষা করার নতুন প্রত্যয় পেয়েছি, যা ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য থাকবে।
বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান ও সুশাসনের তাগিদ
১৭ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান মাত্র পাঁচ মাসে সম্ভব নয় উল্লেখ করে দেশের সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান ভিসি:
“মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্য রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারকে কাজ করার যৌক্তিক সময় দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আর কখনো দমন-পীড়ন, বৈষম্য বা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া যাবে না। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদায় ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (সাদা দল) প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।







