যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক (B-1) ও পর্যটন (B-2) ভিসার ক্ষেত্রে বিতর্কিত ‘ভিসা বন্ড’ (Visa Bond) পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী নীতি হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (US Department of State)।
এক বছর ধরে চলা পাইলট প্রজেক্টের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) থেকে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়া এই নতুন বিধিমালার আওতায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকরা পড়বেন।
ভিসা বন্ডের নতুন নিয়ম ও ফি কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্টারে (Federal Register) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বন্ডের ফি ও শর্তাবলীতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:
-
সর্বোচ্চ ফি বৃদ্ধি: পূর্বে পরীক্ষামূলক ধাপে ভিসা বন্ডের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার। নতুন স্থায়ী নিয়মে সর্বোচ্চ ফি বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪ লাখ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে।
-
নতুন ক্যাটাগরি: ৫ হাজার ডলারের সর্বনিম্ন অপশনটি বাতিল করা হয়েছে। এখন কনস্যুলার কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভিসা আবেদনের আগে ১০ হাজার অথবা ২০ হাজার ডলার জামানত বা বন্ড জমা দিতে হবে।
-
অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম: ভিসা ইন্টারভিউতে আবেদন প্রত্যাখাত বা বাতিল হলে জমার পুরো অর্থ ফেরত পাবেন আবেদনকারী। আবার ভিসা পাওয়ার পর নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান শেষ করে সঠিক সময়ে দেশে ফিরে এলেও বন্ডের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।
কেন এই স্থায়ী পদক্ষেপ?
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার (Visa Overstay) প্রবণতা রোধ করার লক্ষে মার্কিন প্রশাসন মূলত এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে:
-
খরচ কমানো: নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত সময় থেকে যাওয়া একজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে খুঁজে গ্রেফতার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গড়ে প্রায় ১৮ হাজার ডলার খরচ হয়।
-
ভিসা ওভারস্টে হ্রাস: পাইলট প্রজেক্ট চালুর পর দেখা গেছে, যে সমস্ত দেশের নাগরিকদের ওপর বন্ড আরোপ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ওভারস্টে করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব
দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের পাশাপাশি আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশ স্থায়ীভাবে এই বন্ডের আওতায় এল। এর ফলে:
-
ব্যয়বৃদ্ধি: জরুরি ব্যবসায়িক কাজ, চিকিৎসা বা ভ্রমণের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক নিয়মিত ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এককালীন বিশাল অংকের অর্থ বন্ড হিসেবে সাময়িকভাবে আটকে রাখতে হবে।
-
আবেদন হ্রাসের আশঙ্কা: পাইলট প্রজেক্ট চলাকালে অতিরিক্ত খরচের ভয়ে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর প্রায় ৫০% আবেদনকারী বন্ড দিতে অস্বীকৃতি জানায়, যার ফলে সাধারণ পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যুর পরিমাণ বহুগুণ কমে যায়।
ভবিষ্যতে উচ্চ ওভারস্টে হার থাকা আরও নতুন দেশকে এই স্থায়ী ভিসা বন্ডের তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।







