বুধবার (২৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক, বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই বিপ্লব, জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনের শুরুতেই তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহিরউদ্দিন স্বপন জামায়াতে ইসলামী এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রশ্নে গ্রহণযোগ্য অবস্থান না নেওয়া পর্যন্ত জামায়াতের সঙ্গে এবং জুলাইয়ের গণহত্যার রক্তের দাগ না মোছা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিতর্ক চলবে। তিনি বর্তমান সংসদকে ইতিহাসের একটি ‘বৈচিত্র্যময়’ ও ‘ব্যতিক্রম’ সংসদ হিসেবে অভিহিত করেন।
জামায়াতের অবস্থান ও আইনমন্ত্রীর দাবি:
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান দাবি করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধার নতুন সংজ্ঞার বিরোধিতা না করে জামায়াতে ইসলামী পরোক্ষভাবে নিজেদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে মেনে নিয়েছে। তবে জামায়াতের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম এই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, বিএনপিতে যেমন মুক্তিযোদ্ধা আছে, জামায়াতে ইসলামীতেও তেমন মুক্তিযোদ্ধা আছে। তিনি সরকারি দলের নেতাকর্মীদের হামলার হাত থেকে বাঁচতে ‘নিরাপত্তা কার্ড’ প্রবর্তনের দাবি জানান।
জুলাই বিপ্লব ও তরুণ প্রজন্মের ত্যাগ:
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী জুলাইয়ের গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ফুটবলের ৯০ মিনিটের খেলায় শেষ পাঁচ মিনিটে গোল দিয়ে ভাবলে হবে না তারাই সেরা খেলোয়াড়।” অন্যদিকে, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব এককভাবে না নেওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১৩ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির কৌশলের সমালোচনা করেন।
কুরআনের আইন ও জান্নাতের টিকিট বিতর্ক:
রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির মুজিবুর রহমান কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান এবং ইসলামী বোর্ড গঠনের আহ্বান জানান। ‘জান্নাতের টিকিট বিক্রি’ সংক্রান্ত সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, এটি কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা এবং এ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানান।
শিক্ষা ও অর্থনীতির চিত্র:
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পড়ালেখায় কোনো জালিয়াতি বা প্রশ্নফাঁস আর চলবে না। তথ্যমন্ত্রী অর্থনীতির সূচকে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, শেয়ার বাজারের টার্নওভার ৫০০ কোটি থেকে ১০০০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।







