দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে টিকাদানে উদাসীনতাকে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সরকারি এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুদের একটি বিশাল অংশ অর্থাৎ প্রায় তিন-চতুর্থাংশই কোনো ধরনের প্রতিষেধক বা টিকা গ্রহণ করেনি। বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্যগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়।
ব্রিফিংয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ইমিউনাইজেশন বিভাগের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই টিকার আওতার বাইরে ছিল। বাকিদের মধ্যে ১৪ শতাংশ শিশু টিকার একটি ডোজ নিলেও সংক্রমণ এড়াতে পারেনি। এছাড়া ১২ শতাংশ শিশু টিকার দুটি ডোজ সম্পন্ন করার পরও পুনরায় আক্রান্ত হয়েছে। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, হামের সংক্রমণ রোধে পূর্ণাঙ্গ টিকাদান নিশ্চিত করা কতটা জরুরি।
তবে আশার কথা শুনিয়ে ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ৩০টি বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। গত তিন সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় এই বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে নতুন করে কোনো শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে না। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ দেশে হামের বর্তমান প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু এবং রোগ শনাক্তকরণে বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, রোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু কারিগরি সীমাবদ্ধতা থাকায় এবং সঠিক পরীক্ষার অভাবে কিছুটা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তবে তিনি জনমনে আশ্বস্ত করে বলেন, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জন্য প্রয়োজনীয় টিকার নতুন চালান আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে, যাতে করে আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আশা করছে যে, সংক্রমণের বর্তমান হার খুব দ্রুতই তার সর্বোচ্চ পর্যায় (পিক টাইম) অতিক্রম করবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অভিভাবকদের প্রতি সঠিক সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।






