প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রী এবং দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজু এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে জাপানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বৈঠকের মূল আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন। বাংলাদেশের কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মৎস্য ও বনজ সম্পদের সুরক্ষায় জাপানের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিনিধিদল আশ্বস্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাপানের এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাপানের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
জাপানের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। কৃষিপ্রধান এই দেশের উন্নয়নে জাপানের মতো বিশ্বস্ত অংশীদারের প্রযুক্তিগত সহায়তা দেশের সার্বিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।







