যশোরের এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে কেউ নসাৎ করতে পারবে না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ‘জুজুবুড়ির ভয়’ দেখিয়ে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামানো যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের শান্তি নষ্ট করে আবারও ১৭৩ দিনের হরতালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইলে বর্তমান সরকার কঠোর হাতে তা দমন করবে। তিনি বলেন, “এখন সময় দেশ গড়ার, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। যারা স্বৈরাচার পালাবার পর তাদের ক্ষমা করে দিয়ে গোপনে বৈঠক করে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
জুলাই সনদ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার প্রতিটি শব্দ ও লাইন সংসদে পাস করে বাস্তবায়ন করা হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ এই সনদের পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নারী শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা:
দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীকে স্বাবলম্বী করতে বর্তমান সরকার নারীদের ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন:
-
এলপিজি (গ্যাস) কার্ড: ফ্যামিলি কার্ডের মতো এবার নারীদের রান্নার কষ্ট লাঘব করতে ‘এলপিজি কার্ড’ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
-
কৃষিঋণ মওকুফ: ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
-
ফ্যামিলি কার্ড: পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি মানুষের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন:
বিকেলের জনসভার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে শার্শার উলাশীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনর্খনন কাজ উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ঐতিহ্যবাহী যশোরা ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।
জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







