শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি মিলনায়তনে এনসিপি আয়োজিত ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
“ডিসেম্বরে হাসিনার প্রত্যাবর্তনে জনগণ রাজপথে জবাব দেবে”
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন গুঞ্জন তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন:
“যদি শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসে, আর সেটার ব্যবস্থা যদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করে দেন—তবে আপনারা (আহত ও জুলাই যোদ্ধা) প্রস্তুত আছেন তো? আমরা সবাই প্রস্তুত আছি। এয়ারপোর্ট থেকে কোনো কথা হবে না, সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে। ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণ রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরবে না।”
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ১ দফার উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তির পতন ছিল না, ছিল ফ্যাসিবাদের চিরতরে বিলোপ ও নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার নিশ্চিতকরণ ও আহতদের পুনর্বাসনের মূল লক্ষ্যগুলো এখনো থমকে আছে। তিনি সরকারের প্রতি বিচার ও রাষ্ট্রসংস্কারের দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।
জুলাই সনদ, গণভোট ও আহতদের তালিকা নিয়ে এনসিপি নেতাদের বক্তব্য
আলোচনা সভায় উপস্থিত এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ রাষ্ট্রসংস্কার ও সুশাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন:
-
এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন: “শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের মূল চেতনার প্রশ্নে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
-
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম: তিনি তীব্র অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক বিবেচনায় আহতদের তালিকায় নতুন করে ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এটি প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অবমাননা করার শামিল।
শহীদ পরিবার ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের দাবি
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় নারীশক্তির নেতৃবৃন্দ তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন:
১. সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম: জুলাই গণহত্যার বিচারকাজ দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে সংস্কার কমিশনের নির্দেশনাবলী ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
২. জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু: আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া ও অঙ্গহানি হওয়া মানুষদের স্বপ্ন অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক ও সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা।







