জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড এবং বিগত সরকারের দুর্নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে পুঁজি করে কোনো বিশেষ দলের ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ বরদাশত করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব এদেশের সব মানুষের ত্যাগের ফসল, তাই এটি নিয়ে ব্যবসার চেষ্টা চালানো অনুচিত। বিরোধী দল এনসিপির গঠিত ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নিয়ে উপহাস করে তিনি বলেন, এতে হয়তো ‘উজিরে খামখা’ বা মন্ত্রী সেজে থাকার সুখ পাওয়া যায়, কিন্তু এতে প্রকৃত দায়িত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায় না।
অর্থ পাচার ও ব্যাংক দখল নিয়ে উদ্বেগ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন:
-
পাচার হওয়া এই বিশাল অংকের অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু বা ১৪টি মেট্রোরেল নির্মাণ করা সম্ভব ছিল।
-
বিগত ১৫ বছরে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে।
-
ব্যাংক দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে গোয়েন্দা সংস্থার ভয় দেখিয়ে ব্যাংক দখল হতো, আর এখন ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে দখল করা হচ্ছে; এই লুণ্ঠন ও দখলদারি বন্ধ হওয়া জরুরি।
নির্বাচন ও সাংবিধানিক সংস্কার
সালাহ উদ্দিন আহমদ সংস্কারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে থাকা বিতর্কিত তফসিল এবং শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও ভাষণ সংক্রান্ত বিধানগুলো কেন এখনও বিলুপ্ত করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানান যে, অসাংবিধানিক কোনো নির্দেশ বা জুলাই সনদের বাইরের কোনো ফর্মুলা বিএনপি মেনে নেবে না।
বাক-স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতি
বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে-বিদেশে বসে যেভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কুৎসা রটানো হচ্ছে, তাতে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। স্বাধীনতার নামে এই কলঙ্কিত ধারা বন্ধ করতে তিনি আইন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।







