পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফেরার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটনের সাথে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দেওয়া বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনার একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত হতে পারে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু নিশ্চিত করা হয়নি, তবে অসমর্থিত বেশ কিছু সূত্র দাবি করেছে যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজে এই আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
গত জানুয়ারি মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সমরশক্তি বৃদ্ধি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কারণে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষই সরাসরি সামরিক সংঘাত থেকে কিছুটা পিছিয়ে এসে কূটনীতির পথে হাঁটার লক্ষণ দেখাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বর্তমানে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে বার্তার আদান-প্রদান চলছে। এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে টেলিফোনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার জানিয়েছিলেন যে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘গম্ভীরভাবে’ আলোচনা করছে। তবে এই আলোচনার পথ মোটেও মসৃণ নয়। রয়টার্সের সূত্রমতে, ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন যে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে রাশ টানতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করতে হবে। অতীতে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নমনীয়তা দেখালেও ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। তবে দেশটির বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া তেহরানের জন্য এখন সময়ের দাবি।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে ইরান ইইউ রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবুও যুদ্ধ এড়াতে এবং পারমাণবিক ফাইলটি নতুন করে খোলার জন্য ওমানসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
সূত্র- আলজাজিরা







