দীর্ঘদিনের বৈরিতা আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতের বলয় ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারক বা মেমো স্বাক্ষরের গুঞ্জন ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে ১৪ দফার একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে এবং শীঘ্রই এক পৃষ্ঠার একটি আনুষ্ঠানিক দলিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। কেবল রয়টার্সই নয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ তাদের প্রতিবেদনে একই ধরণের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছে যে, এই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি এখন একেবারেই শেষ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং ওয়াশিংটন এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত দলিলে সই হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে এটিই সবচাইতে ফলপ্রসূ এবং অগ্রসর আলোচনা। এই ১৪ দফার মেমোটিকে মূলত যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি প্রাথমিক কাঠামো বা ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান ও বিস্তারিত শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চলবে। এই সমঝোতা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রশমনের পাশাপাশি অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরণের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই শান্তি আলোচনার বিপরীতে ইরানের অভ্যন্তরীণ সুর কিছুটা ভিন্ন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও প্রচারমাধ্যমের চাপ সৃষ্টি করে ইরানের অভ্যন্তরে বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁর মতে, ইরানকে ‘আত্মসমর্পণ’ করাতে ওয়াশিংটন এই কৌশল গ্রহণ করেছে যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য। ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, গালিবাফ জোর দিয়ে বলেছেন যে শত্রুপক্ষ আবারও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যার ফলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, অর্থনৈতিক চাপ যতই প্রকট হোক না কেন, দেশের স্বাধীনতার রক্ষায় ইরানি জাতি সব প্রতিকূলতা সহ্য করে টিকে থাকবে এবং বহিরাগত কোনো অস্থিতিশীলতার পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না।







