বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে ইরান এই জলপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সব ধরনের কারিগরি ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের অচলাবস্থা কাটাতে সরাসরি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দেশটির বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেনদের উদ্দেশে এক আনুষ্ঠানিক বার্তা পাঠিয়েছে। এই বার্তায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে যে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ জরুরি পরিস্থিতিতে ইরানের বন্দরগুলো থেকে কারিগরি সহায়তা এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারবে। তেহরানের দাবি, সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তারা এই মানবিক ও কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তবে ইরানের এই অবস্থানকে ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির পথে হাঁটছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন, যেখানে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং মাইন অপসারণসহ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মে মাসের এই চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারের মতো মিত্রদের সাথে নিয়েই ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবটি তৈরি করেছে। যদিও প্রস্তাবে সরাসরি ‘সামরিক শক্তি’র কথা বলা হয়নি, তবে ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও বল প্রয়োগের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ‘জাতিসংঘের কার্যকারিতার পরীক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এই সংকটের সমাধান করতে না পারে, তবে জাতিসংঘের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত এপ্রিলে একই ধরণের একটি প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। ফলে বর্তমানে সংশোধিত এই প্রস্তাবে বেইজিং ও মস্কো শেষ পর্যন্ত সায় দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।







