আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বর্ধিত সভায় এই উন্নয়ন বাজেটের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এবারের এডিপিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতকে।
অর্থায়নের উৎস:
পরিকল্পনা কমিশনের আইএমইডি বিভাগ কর্তৃক প্রস্তুত করা নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটের বড় একটি অংশ আসবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৩ শতাংশ। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলো তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে আরও ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। সব মিলিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন বাজেটের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ:
প্রস্তাবিত এডিপিতে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে, যেখানে ৫০ হাজার ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি মোট উন্নয়ন বাজেটের প্রায় ১৬.৭০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাচ্ছে শিক্ষা খাত, যার পরিমাণ ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি ১২ লাখ টাকা বা মোট বরাদ্দের ১৫.৮৬ শতাংশ। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (১১.৮৪ শতাংশ), বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং আবাসন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাতেই মোট এডিপির প্রায় ৬২ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
খাতভিত্তিক চূড়ান্ত বরাদ্দ নির্ধারণের জন্য আগামী ১৬ মে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৮ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই উন্নয়ন বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করাই এই বিশালাকার বাজেটের মূল লক্ষ্য বলে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে।







