জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন যে, কমিশনের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো সব সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে একমত হবে না। তিনি জানান, কমিশনের লক্ষ্য হলো ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বিবৃতি ও আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করা।
এই মন্তব্যটি ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার দশম দিনে করা হয়েছে। ড. আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রধানরা: জনপ্রশাসনে আব্দুল মঈদ চৌধুরী, পুলিশে সাফাররাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগে বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে ড. ইফতেখারুজ্জামান।
আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, কমিশন থেকে উত্থাপিত সব প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হবে এমন প্রত্যাশা তাদের নেই। তিনি উদাহরণ হিসেবে জাতীয় সাংবিধানিক কমিশনের (NCC) প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন, যা বেশিরভাগ দলের আপত্তির কারণে সংশোধিত হয়েছিল। একইভাবে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চার প্রদেশ গঠনের প্রস্তাবও প্রাথমিক ঐকমত্য পায়নি।
কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকা সত্ত্বেও, কমিশন ঐকমত্যের ক্ষেত্রগুলিতে মনোনিবেশ করে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখে। আলী রীয়াজ সময়ের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করেছেন, তবে রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ত সময়সূচী এবং আসন্ন কর্মসূচির মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা জানান। কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবগুলো সংশোধন করার জন্য কাজ করবে, যাতে স্পষ্টতা নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।







