ঈদ উপলক্ষ্যে মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই এলো ২৬২ কোটি ডলার
 

 

ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যান্সের জোয়ার: মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই এলো ২৬২ কোটি ডলার

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ঈদ উৎসবের খরচ মেটাতে প্রবাসীরা ব্যাপক হারে দেশে টাকা পাঠানোয় চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসের ১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যেই দেশে এসেছে ২৬২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। বর্তমান আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এই হিসাবে চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে ১ হাজার ৬০৯ কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

হুন্ডি প্রতিরোধ ও নীতিমালার ইতিবাচক প্রভাব:

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নজরদারি, বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকগুলোর উন্নত সেবার কারণে রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। মে মাসের বাকি দিনগুলোতে এবং জুনের শুরুতে ঈদুল আজহার ঠিক আগমুহূর্তে এই প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স চিত্র:

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সের গতি ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। জুলাই থেকে ২০ মে পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ৩ হাজার ১৯৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:

মাস রেমিট্যান্সের পরিমাণ (মার্কিন ডলারে)
জুলাই ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার
আগস্ট ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার
সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার
অক্টোবর ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার
নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার
ডিসেম্বর ৩২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার
জানুয়ারি ৩১৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার
ফেব্রুয়ারি ৩০২ কোটি ডলার
মার্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার
এপ্রিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ ডলার
মে (১-২০ তারিখ) ২৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকেন্দ্রিক প্রবাসী আয়ের এই জোরালো গতি মে মাসের বাকি দিনগুলোতেও বজায় থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতায় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top