পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রাহিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী
 

 

পল্লবীতে শিশু রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; ঘাতক সোহেলের লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

রাজধানীর পল্লবীতে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ৭ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে সেখানে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা দায়ের:

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে রামিসাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ঘরের ভেতর তার উপস্থিতি টের পান পরিবারের সদস্যরা। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ এবং বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

আদালতে ঘাতক সোহেলের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মাদকাসক্ত সোহেল রানা জানায়:

  • বিকৃত লালসা ও ধর্ষণ: ঘটনার দিন সকালে একই তলার পাশাপাশি কক্ষে থাকা রামিসাকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা জাগে। সুযোগ বুঝে সে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেয় এবং বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

  • হত্যাকাণ্ড: নির্যাতনের পর শিশুটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে অপরাধ ফাঁসের আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সোহেল।

  • লাশ গুমের চেষ্টা ও স্ত্রীর সহযোগিতা: হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পেরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গুমের পরিকল্পনা করেন। বাথরুম থেকে লাশ শোবার ঘরে এনে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।

জবানবন্দিতে আরও জানা যায়, এই নৃশংস কর্মযজ্ঞের সময়ই রামিসার মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেলকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ করে রাখেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুলিশ এই ঘটনায় লাশ গুমে সহায়তাকারী স্ত্রী স্বপ্নার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top