বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় এবং মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশকে দেউলিয়া করার তীব্র সমালোচনা করেছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদুর রহমান বলেন, পদ্মা ব্রিজে রেললাইন স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল এবং গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বিআরটি-র মতো প্রকল্পগুলো ছিল মূলত ‘উন্নয়নের ফ্যালাসি’ এবং দুর্নীতির একটি বড় মাধ্যম।
বর্তমান সরকারকে এ ধরনের ‘উন্নয়নের ফাঁদে’ না পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো বিনিয়োগের আগে তার অর্থনৈতিক উপযোগিতা বা ‘রেট অব রিটার্ন’ বিবেচনা করতে হবে। বাজেটের আকার বাড়িয়ে রাজনৈতিক বাহবা নেওয়ার চেয়ে গুণগত মানের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যাপক অর্থ চুরির (লিকেজ) কথা উল্লেখ করে বলেন, সক্ষমতা না বাড়িয়ে বাজেটের আকার বড় করলে দুর্নীতি আরও বাড়বে।
আগামী বাজেটের জন্য সুপারিশসমূহ:
মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আগামী বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেন:
-
মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার: শুধু সুদের হার বাড়িয়ে ৯ শতাংশের উপরে থাকা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এটি সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
-
কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন: বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিতে হবে এবং শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
-
কৃষি খাত: প্রান্তিক কৃষকরা যেন ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় এবং দেউলিয়া না হয়ে যায়, সেজন্য শক্তিশালী সরকারি নীতিমালা প্রয়োজন।
-
সম্পদের সুষম বণ্টন: দেশের উচ্চবিত্ত ১০ শতাংশ মানুষের হাতে থাকা ৫০ শতাংশ সম্পদের বৈষম্য দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
-
রপ্তানি বহুমুখীকরণ: পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি পণ্য বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি ক্রমবর্ধমান ঋণ, খেলাপি ঋণের পাহাড় এবং গ্যাস সংকটে কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটসের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুর রবের সভাপতিত্বে এই আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, এমপি অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী এবং সাবেক সচিব ড. শরিফুল আলম জিন্নাহ।







