অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেট’ বা জনম্যান্ডেটের অভাব এবং সীমিত ক্ষমতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে ছিল। ফলে নতুন কোনো বড় সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে মেরামত (Repair) করা এবং খাদের কিনারা থেকে অর্থনীতিকে ফেরানোই ছিল তাদের প্রধান মনোযোগ। তিনি বলেন, “অনেকে জানতে চান দেড় বছরে আমরা কী করেছি? কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমাদের শক্তি ও ম্যান্ডেট—দুটিরই সীমাবদ্ধতা ছিল।” তবে ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনে কিছু ভিত্তিগত সংস্কারের মাধ্যমে সূচকগুলোতে স্থিতিশীলতা আনা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সুশাসনের অভাব:
বক্তব্যে তিনি ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল আইনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।” এ ছাড়াও তিনি প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা, জ্বালানি খাতে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে উদাসীনতা এবং সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতে সুশাসনের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্য প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান:
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম নতুন প্রজন্মকে নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশের’ হাল ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্পষ্ট দৃষ্টি ও সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পরিবর্তন অনিবার্য, যা সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন প্রমাণ করেছে।
আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য ২৬ জন শিক্ষার্থী ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্টে’ স্থান পান এবং দুইজন স্বর্ণপদক লাভ করেন।







