সারাদেশে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘোষণার পর গত ১ মে থেকে তালিকা হালনাগাদ করে ‘অলআউট’ অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনী। অভিযানে এ পর্যন্ত সহস্রাধিক চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে সরকারি দল বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন, যা সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রতিফলন।
পুলিশ সদর দফতর থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ পার পাবে না এবং অপরাধীদের পক্ষে কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ইতোমধ্যে ১২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি তালিকা তৈরি করে অভিযান চালাচ্ছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়নও একযোগে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ইতিবাচক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অপরাধ দমনে সরকারের এই সদিচ্ছাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
অভিযানের মূল দিকসমূহ:
-
কঠোর নির্দেশ: ইউনিটভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
-
নজরদারি: পাড়া-মহল্লায় বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা কমিটিতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
-
পেশাদারিত্ব: পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান চালাচ্ছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমেও অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ধরলে চাঁদাবাজি পুরোপুরি নির্মূল হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হকের মতে, অভিযানের সুফল পেতে হলে নেপথ্যের মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকার যদি মূল চক্রগুলোকে ভাঙতে পারে, তবে দেশের অপরাধ পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে।







