মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের হুমকির বিপরীতে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি শত্রুপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জেনারেল হাতামি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানি এফ-৫ যুদ্ধবিমান মার্কিন ঘাঁটির ওপর দিয়ে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, “বিজয় ও সামর্থ্যের ব্যাপারে আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগায় আমাদের বিশ্বাস ও আস্থা।”
কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা:
-
ইসরায়েলের অবস্থান: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১১-এর তথ্যমতে, তেল আবিব ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
-
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা: বর্তমানে চীন সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পরিবর্তে উল্টো নতুন করে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলেছে।
-
আঞ্চলিক অস্থিরতা: ইরান এই পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে। আমিরাতের বর্তমান অবস্থানকে তেহরান ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বশক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।







