কয়েক মাসের কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বর্তমানে পুরোদমে ভিসা সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে. দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা দেওয়া শুরু করেছে এবং ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য ঠিক করেছে. গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরকালে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করেন. বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং অন্যান্য কনস্যুলার বিভাগগুলো কার্যকর রয়েছে এবং গত দুই মাসে তারা ১৩ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিসা প্রদান করেছে.
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার তা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে. গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সফর এবং শীঘ্রই নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণ এই প্রক্রিয়ায় গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে. পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতে বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে এসেছিল, যা ২০২৩ সালে ছিল ২১ লাখের বেশি. ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার পর উভয় দেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক, জ্বালানি সংযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের মতো পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।







