প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে চীন সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইনকিলাব ভবনে দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদকের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই বন্ধুত্বের বার্তা দেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায়।
ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, গত নির্বাচনে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও সারের যে সংকটে পড়েছে, তা মোকাবিলায় চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে চীন ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সার সরবরাহেও কাজ করছে।
বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্র:
রাষ্ট্রদূত জানান, চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো, টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো উৎপাদনমুখী খাতে বড় বিনিয়োগের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্যে চীন শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে, যা অন্য কোনো দেশ দিচ্ছে না। এছাড়া আম ও কাঁঠালের মতো দেশি ফল চীনের বাজারে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বেশ কিছু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল না হলে বর্তমান সরকার শুরুতেই অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রস্তুত অবস্থায় পেত।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের নতুন উচ্চতা:
বৈঠকে দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একমাত্র চীনই নিঃস্বার্থভাবে বড় বিনিয়োগ করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ:
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীন ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই সফরটি ঐতিহাসিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, চীন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব। সামরিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও দুই দেশ একত্রে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।







