ইসলামাবাদে যুদ্ধের দামামা আর কূটনৈতিক কৌশলের এক জটিল সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পৃথক বৈঠক করেছেন। তবে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সরাসরি কোনো আলোচনার সম্ভাবনা এখনো ক্ষীণ।
শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ ছিল কার্যত জনশূন্য। কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা এই শহরে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের যাতায়াত থাকলেও বিকেল পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
ট্রাম্পের ‘কার্ড’ খোঁচায় তেহরানের অনাস্থা:
আলোচনা শুরুর আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক মেজাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানিদের হাতে কোনো ‘কার্ড’ নেই এবং তারা শুধু আলোচনার জন্যই বেঁচে আছে। অন্যদিকে, ‘গভীর অবিশ্বাস’ নিয়ে ইসলামাবাদে আসা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করেছেন যে, ইরান আক্রান্ত হলে আবারও পাল্টা জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
লেবাননে রক্তপাত ও আলোচনার শর্ত:
ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ না হলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে না। কিন্তু ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মানেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করা নয়। শনিবারও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার এবং লেবাননে ১ হাজার ৯৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি ও তেলের বাজার:
যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র হরমুজ প্রণালি এখনো ইরানের নিয়ন্ত্রণে। তেহরান এখন এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের কাছ থেকে ‘মাসুল’ আদায়ের প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান প্রত্যাখান করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯৭ ডলারে অবস্থান করছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে সেই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।







