বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন নির্বাচনে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি দাবি করেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই এ দেশের মানুষ এক নতুন ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশের দেখা পাবে। ১১ দলীয় জোটের এই বিশাল সমাবেশে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতির দিক পরিবর্তনের ডাক দেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের উদ্যোগে পদুয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সভায় ডা. শফিকুর রহমান বংশপরম্পরায় ক্ষমতার উত্তরাধিকার বা ‘রাজার ছেলে রাজা হওয়া’র রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীও যদি অপরাধ করেন, তবে তাঁকে আইনের আওতায় আসতে হবে। ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ন্যায়বিচারের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াত আমীর জোর দিয়ে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতায় যাওয়া নয়, বরং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা।
নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১২ তারিখ জোটের প্রতীকগুলোতে ভোট দিয়ে জনগন দখলবাজি, চাঁদাবাজি এবং মামলার বাণিজ্যের অবসান ঘটাবে। যুবসমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নতুন বাংলাদেশ তরুণদের জন্যই সাজানো হচ্ছে, তাই তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভায় তিনি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ জোটের বিভিন্ন প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং সাধারণ মানুষকে ভোটকেন্দ্রে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং অন্যান্য নেতারাও একাত্মতা প্রকাশ করে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন। বক্তারা বলেন, জাতিকে বিভক্ত করার দিন শেষ, এখন সময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের। ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ ছাত্রনেতাদের উপস্থিতি সভায় নতুন উদ্দীপনা যোগ করে। সমাবেশ শেষে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের মাধ্যমে নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়ে লোহাগাড়ার প্রতিটি প্রান্তে।







