বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের জঘন্য গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের নির্মম হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা করে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর দোষ চাপানো হয়েছিল। সে সময় সরকারি মদদপুষ্ট সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয় এবং বহু নিরপরাধ নেতাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নির্যাতন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশের কোনো গণতন্ত্রমনা মানুষই রেহাই পায়নি। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং শাপলা চত্বরের অভিযানের বিরুদ্ধে জমে থাকা জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই একসময় জাতীয় ঐক্যে রূপান্তরিত হয়েছিল, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
জহির উদ্দিন স্বপন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে সরকার জাতির কাছে তার দায়বদ্ধতার প্রমাণ দিয়েছে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতাকেও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ার মূল শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। সভায় তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমের প্রশ্নে যখন গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই বড় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়। শহীদদের ত্যাগের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে দেশের স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির স্বার্থে এই জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা জরুরি বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।







