হেফাজত আমিরের আহ্বানে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক
 

 

হেফাজত আমিরের আহ্বানে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐতিহাসিক বৈঠক: ঐক্যবদ্ধ পথচলার বার্তা ও দেশজুড়ে পুনর্বাসনের ডাক

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বিশেষ আহ্বানে কওমি ঘরানার প্রতিনিধিত্বশীল শীর্ষ ৭টি ইসলামি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বিভেদ ভুলে দেশের কওমি ধারার প্রধান দলগুলোকে আগামী দিনে একই প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার এক শক্তিশালী নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে এই বৈঠক থেকে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এই গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত ছিলেন ইসলামি ৭ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির প্রবীণ আলেমে দ্বীন আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে দেশের শীর্ষ ও মূলধারার ইসলামি দলগুলোর প্রধান ও সাধারণ সম্পাদকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দল ও প্রধান নেতাদের তালিকা:

দলের নাম শীর্ষ প্রতিনিধি ও পদবি
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ (আহ্বায়ক)

আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী (সিনিয়র নায়েবে আমির ও মহাপরিচালক, হাটহাজারী মাদরাসা)


আল্লামা আব্দুল হামিদ (নায়েবে আমির ও পীর সাহেব মধুপুর)


মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী ও মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক (সভাপতি)


মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী (সহ-সভাপতি)।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মাওলানা মামুনুল হক (আমির)।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী (ভারপ্রাপ্ত আমির)।
ইসলামি ঐক্যজোট মাওলানা আব্দুল কাদের (চেয়ারম্যান)।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী (আমির)।
খেলাফত মজলিস মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন (নায়েবে আমির)।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাওলানা গাজি আতাউর রহমান (মহাসচিব)।

এছাড়াও কওমি অঙ্গনের জ্যেষ্ঠ ও প্রগতিশীল নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আলী ওসমান, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি সাখাওয়াত হোসেন রাজি, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস, মাওলানা মুখলিসুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি বশিরুল্লাহ, মাওলানা রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা মোস্তফা কামাল জিহাদী, মাওলানা ইমরান সিকদার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া এবং আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম প্রমুখ।

৭ দলের একাত্মতা: কওমি অঙ্গনে ঐক্যের নতুন দিগন্ত

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং ইসলামি শক্তির সুসংহত অবস্থানের স্বার্থে উপস্থিত সাতটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আগামী দিনে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার জন্য দিকনির্দেশনা দেন আমিরে হেফাজত।

বৈঠকে প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতারাই হেফাজত আমিরের এই সময়োপযোগী প্রস্তাব ও আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে একমত পোষণ করেন। তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, অতীতের সমস্ত বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝি পেছনে ফেলে আগামী দিনে যেকোনো জাতীয় সংকটে কওমি ঘরানার এই সাতটি দল রাজপথে এবং নীতিনির্ধারণী ফোরামে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং একযোগে কর্মসূচি পালন করবে।

“ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের ঈমানী দায়িত্ব” — বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসনের আহ্বান

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পাশাপাশি চলমান বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।

সভায় নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ের বিধ্বংসী বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, কক্সবাজারের চকরিয়া, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলার লাখ লাখ পরিবার আজ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের কাঁচা ঘরবাড়ি, পরনের বস্ত্র, সঞ্চিত খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই মুহূর্তে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি ও ধর্মীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

আমিরে হেফাজত আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী তাঁর সভাপতি বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে বলেন:

“বন্যাপরবর্তী সময়ে ঘরবাড়ি হারানো অসহায় ও আশ্রয়হীন মানুষদের পুনর্বাসন করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। এই চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও সামাজিক কর্তব্যের পাশাপাশি আমাদের অন্যতম বড় ঈমানী দায়িত্ব।”

তিনি অবিলম্বে হেফাজতে ইসলামের জেলা ও উপজেলা শাখাগুলোর প্রতি বন্যাকবলিত দুর্গত এলাকায় দ্রুত বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ তহবিল গঠন করে মাঠে নামার জরুরি নির্দেশ প্রদান করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top