মালয়েশিয়ার কারাগারে থাকা ২ হাজার বাংলাদেশির মুক্তি নিয়ে আলোচনা
 

 

মালয়েশিয়ার কারাগারে থাকা ২ হাজার বাংলাদেশির মুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে: কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন কারাগারে ও ডিটেনশন সেন্টারে নানা কারণে আটকে থাকা দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের মুক্তির বিষয়ে কুয়ালালামপুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকার গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

রোববার (২১ জুন ২০২৬) রাতে কুয়ালালামপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ ও আবেগঘন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কারিগরি শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের টিকিয়ে রাখতে সরকারের আধুনিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন:

  • ভাষা ও প্রযুক্তি শিক্ষা: এখন থেকে কোনো কর্মী অনুমানের ওপর ভর করে বিদেশে আসবে না। বিদেশগামী কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ভাষা শিক্ষা ও আধুনিক কারিগরি (আইটি ও মেকানিক্যাল) প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

  • ইনস্টিটিউট আধুনিকায়ন: এই লক্ষ্যে সারা দেশের টেকনিক্যাল, ভোকেশনাল এবং পলিটেকনিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

  • ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান পরিকল্পনা: আগামী এক দশকে (১০ বছর) বিশ্বের কোন কোন উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে সরকারের দক্ষ টিম দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি করছে।

মালয়েশিয়ার ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের কাজের প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে একটি আত্মজিজ্ঞাসা রেখে বলেন, “আমাদের ভাই-বোনেরা যদি বিদেশে এসে এত সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন, তবে নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশকে কেন আমরা একইভাবে পরিচ্ছন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক রাখতে পারব না?”

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও নতুন বাজার নিয়ে শীর্ষ বৈঠক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শ্রম খাতের একাধিক সুসংবাদ আসতে যাচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে যেসব বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে:

  • এফটিএ (FTA) চুক্তি: বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement) দ্রুত সইয়ের লক্ষ্যে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (ToR) সংক্রান্ত একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হবে।

  • সেমিকন্ডাক্টর ও হালাল শিল্প: বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর (চিপ তৈরি) শিল্প, হালাল ফুড ইন্ডাস্ট্রি, জ্বালানি, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।

  • শ্রমবাজারের জটিলতা দূর: দেশটিতে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটমুক্ত কর্মী নিয়োগ, আসিয়ানে (ASEAN) বাংলাদেশের পর্যবেক্ষক/সদস্যপদ প্রাপ্তি এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক সমর্থন চাওয়া হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন পর দেশের সরকার প্রধানকে সরাসরি নিজেদের মাঝে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top