ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার একটি সরকারি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পরিবর্তনের পর পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে গিয়ে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্তমূলক অনুশাসন প্রদান করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (২ জুন ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে নামকরণের অনুশাসন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মায়ের নামে চলমান কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণের এই প্রস্তাব অনুমোদন করেননি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রস্তাবের নোটে স্পষ্ট অনুশাসন দিয়ে লিখেছেন:
“যদি নতুন নামকরণ করতে হয়, তাহলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে দেশের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে নাম পরিবর্তনের চেনা ধারার বিপরীতে একটি ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি ২০০৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দ্বারা পরিচালিত একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মশা নিধনে চসিক কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরও বাতিল
এর আগে সরকারের ব্যয় সংকোচন এবং যৌক্তিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে আরেকটি বড় পদক্ষেপ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মশা নিধনের তথাকথিত ‘উদ্ভাবনী কার্যক্রম’ দেখার অজুহাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার একটি প্রস্তাব তিনি সরাসরি বাতিল করে দেন।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলা হয়েছিল যে, মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য বিপুল অর্থ খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলে মশা নিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন।







