বাজার থেকে ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের
 

 

মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ: ফ্রেশ, বেলিসিমো ও ডেকোসহ ৪ প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশ মান (BDS) অনুযায়ী নির্ধারিত গুণগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান পাওয়ায় দেশের চার নামি প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের (Microorganisms) উপস্থিতি এবং পুষ্টিমানের চরম ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিএসটিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

বিএসটিআইয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে যেসব নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড ও পণ্যের নাম উল্লেখ করে বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

প্রতিষ্ঠানের নাম ব্র্যান্ড ও পণ্যের নাম মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতার কারণ
১. ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস ফ্রেশ গার্ডেন আমের আচার মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভের উপস্থিতি।
২. কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বেলিসিমো (Bellissimo) ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিম’ টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাট (Total Milk Solid Non-Fat) বাংলাদেশ মানের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় থাকা।
৩. অলিভ বাংলাদেশ

লাবণ্য (Labonya) ব্র্যান্ডের ৪টি পণ্য:

 

• মিল্ক স্কিন লোশন

 

• অ্যালোভেরা স্কিন লোশন

 

• ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক

 

• অ্যালোভেরা শ্যাম্পু

মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর অণুজীবের (Microorganisms) উপস্থিতি।
৪. ডেকো ফুডস লিমিটেড ডেকো ফ্রুট ফান্ডা (Deko Fruit Funda) ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডার নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে অতিমাত্রায় ভিটামিন ‘সি’ (Vitamin C) কম পাওয়া।

উৎপাদন, বিক্রি ও বিতরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

বিএসটিআই জানায়, ল্যাব পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান পত্র (Rejection letter) পাঠানো হয়েছে। নতুন করে পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা পুনরায় মান অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা বিক্রি এবং বিতরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে উক্ত চার প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত এই ৮টি পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, সুপারশপ ও বাজারের খুচরা দোকান থেকে অবিলম্বে নিজ খরচে তুলে নিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, এই নির্দেশনা মাঠে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা বিএসটিআইয়ের বিশেষ টিম নিবিড়ভাবে তদারকি করবে এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান মহাপরিচালকের

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক জানান, মানসম্মত ও নিরাপদ পণ্য পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং এ ক্ষেত্রে বিএসটিআই জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি সাধারণ ক্রেতাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যেকোনো পণ্য ক্রয়ের পূর্বে প্যাকেটের গায়ে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন (Logo), অনুমোদন বা লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ভালোভাবে যাচাই করে নিন। বাজারে কোনো পণ্যের মানহীনতা, ভেজাল বা বিএসটিআই চিহ্নের অপব্যবহার নজরে এলে দ্রুত সংস্থাকে জানান।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top