জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং দেশের সমগ্র সীমান্ত অঞ্চলকে নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় ঢেকে দেওয়াকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “মিয়ানমার সীমান্তের বর্তমান জটিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সুপারিশ ও প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিক পর্যায়ে ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।”
আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের ‘আশরাফ হল’-এ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইন শনাক্তকরণ যন্ত্র ও বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বিপজ্জনক এলাকায় ওপার থেকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বা বর্ডার মাইনের কারণে বিজিবি সদস্য ও সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে ইতোমধ্যে বিজিবিকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাইন শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি (Mine Detectors) সরবরাহ করা হয়েছে।
একই সাথে বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়াতে:
-
বিজিবির জনবল কাঠামো বৃদ্ধি ও নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন,
-
আধুনিক অস্ত্র, গোয়েন্দা প্রযুক্তি ও দ্রুতগামী যানবাহন সংগ্রহ,
-
নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং
-
বিজিবি হাসপাতালের আধুনিকায়নসহ প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত নিষ্পত্তি করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
জেনারেল কোর্ট মার্শালে জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরের বিচার
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার এতদিন পলাতক থাকা অন্যতম প্রধান আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সাম্প্রতিক গ্রেফতার ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “ওই ঐতিহাসিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল আইনি বিচার প্রক্রিয়া সে সময় সামরিক আদালতেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে আদালতের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত রয়েছে। এতদিন ছদ্মনামে প্রতিবেশী একটি দেশে আত্মগোপনে থাকা মোজাফফরকে সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেনা আইনের অধীনে বিচার সম্পন্ন করার স্বার্থেই তাকে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন:
“জেনারেল কোর্ট মার্শাল (General Court Martial) গঠনের মাধ্যমে প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী মোজাফফরের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই অপরাধে কোনো ব্যক্তিকে সাধারণ দেওয়ানি আইন এবং সামরিক আইন—এই দুই ভিন্ন বিচার ব্যবস্থায় আলাদাভাবে বিচার করার আইনি সুযোগ নেই। ফলে সেনা আইনেই তার চূড়ান্ত বিচার সম্পন্ন হবে।”
মিয়ানমার সীমান্তে ত্রিমুখী সংঘাত ও ভারতের সাথে পুশইন প্রসঙ্গ
মিয়ানমার সীমান্তের জটিল পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী, আরাকান আর্মি এবং আরএসও ও আরসার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ত্রিমুখী বহুমুখী সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে ওপার থেকে গুলি আসা এবং সীমান্ত ঘেঁষে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ স সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। ভারতের সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় সেখানে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সীমান্ত দিয়ে ভারতের ‘পুশইন’ করার চেষ্টা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ কড়া বার্তা দিয়ে বলেন:
“বিজিবি ও স্থানীয় সীমান্তে বসবাসকারী দেশপ্রেমিক জনগণের কড়া সতর্ক অবস্থানের কারণে ভারতের কোনো পুশইন প্রচেষ্টাই সফল হতে দেওয়া হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক প্রচারণায় বাংলাদেশের কিছু যায় আসে না; বাংলাদেশ কেবল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনা করে।”
তিনি জানান, কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশি দাবি করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তালিকা পাঠাতে হবে। যাচাই-বাছাইয়ে তারা বৈধ বাংলাদেশি প্রমাণিত হলেই কেবল আইন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনা হবে, এর বাইরে অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।







