জাতীয় সংসদকে কেবল একতরফা আলোচনার কেন্দ্র বা ‘মনোলগ সেশন’ হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন শেয়ার করার অপরাধে গ্রেপ্তার ও ভিন্নমত দমনের তীব্র সমালোচনা করেন এই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য।
সংসদ অধিবেশনে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন যে, একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি জবাবদিহিতা থাকা অপরিহার্য হলেও বর্তমানে সংসদীয় অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো কেবল টেবিলে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং সেগুলোর মৌখিক উত্তর দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সংসদ সদস্যরা সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ হারাচ্ছেন, যা মন্ত্রীদের দায়বদ্ধতাকে আড়াল করছে। মন্ত্রণালয় থেকে লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট পাঠ করার মধ্য দিয়ে সংসদ এখন একটি প্রাণহীন সেশনে পরিণত হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এই বিষয়টি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে হাসনাত আবদুল্লাহ আহসান হাবিব নামের এক ব্যক্তিকে কার্টুন শেয়ার করার দায়ে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর কেবল রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা কার্টুন শেয়ার করার জন্য সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলা ও গ্রেপ্তার কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে এ ধরনের দমনমূলক কর্মকাণ্ডকে তিনি ভিন্নমত দমনের নামান্তর হিসেবে অভিহিত করেন এবং জামিনযোগ্য ধারায় জামিন না দেওয়ার বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দীর্ঘ আলোচনার বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় বাঁচাতে প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, সরকার জবাবদিহিতাকে ভয় পায় না এবং সংসদ সদস্যরা চাইলে রাত ১০টা পর্যন্ত অধিবেশন চালিয়েও মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্ব করতে তারা রাজি। কার্টুন ইস্যুতে তিনি জানান, ব্যক্তিগত কার্টুনের জন্য নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু কার্টুন আঁকার কারণে কেউ গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য তিনি স্পিকারের মাধ্যমে অনুরোধ জানান। চিফ হুইপ আরও স্পষ্ট করেন যে, যদি ওই ব্যক্তি সাইবার অপরাধ বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকেন, তবেই যেন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে।







