ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউ-এর চুক্তি বাতিলের প্রস্তাব দিচ্ছে স্পেন; আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিদ্যমান ‘অ্যাসোসিয়েশন এগ্রিমেন্ট’ বা সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবটি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে উত্থাপন করবে। গত রোববার আন্দালুসিয়ায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় সানচেজ এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা করে না, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদার থাকার যোগ্যতা রাখে না। তিনি বলেন, “আগামী মঙ্গলবার স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ-এর কাছে ইসরায়েলের সাথে অংশীদারিত্ব চুক্তি ছিন্ন করার প্রস্তাব পেশ করবে। যারা আইন মানে না, তারা আমাদের সহযোগী হতে পারে না।” মূলত গাজায় দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এবং লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটেই মাদ্রিদ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

চুক্তির প্রেক্ষাপট ও শর্ত:

২০০০ সালের জুন মাসে কার্যকর হওয়া এই সহযোগিতা চুক্তির মূল ভিত্তি ছিল মানবাধিকারের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। স্পেন ও আয়ারল্যান্ড গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যামূলক’ আখ্যা দিয়ে এই চুক্তি পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। সম্প্রতি স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া যৌথভাবে ইউরোপীয় কমিশনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন:

চলতি বছরের শুরুর দিকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলের সাথে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অন্যতম কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তার এই সর্বশেষ পদক্ষেপ ইসরায়েলকে ইউরোপীয় বাজার এবং রাজনৈতিক বলয় থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top