সংসদের ১৩তম দিনে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি রসিকতা, বিতর্ক ও ওয়াকআউট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিন ছিলো নানা ঘটনার সমাহার। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ-এর অধিবেশন শুরু হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দিনজুড়ে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা চললেও মাঝেমধ্যে কিছু ঘটনা ও মন্তব্য সংসদে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

অধিবেশনের এক পর্যায়ে মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্যদের জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় মেন্যু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি রসিকতা করে বলেন, “সাগর থেকে তিমি মাছ ও হাঙর আনা হয়েছে।” তার এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে এবং কিছুক্ষণের জন্য গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে হালকা আমেজ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, অধিবেশনে আইন প্রণয়নের সময় একটি মজার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অর্থমন্ত্রী বিল উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটের আগে কথা বলার সুযোগ চান একজন সংসদ সদস্য। তবে তিনি যে বিল নিয়ে কথা বলতে চান, সেটি তখন আলোচনায় ছিল না। এ ঘটনায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন এবং বলেন, সংসদের কার্যক্রমে অযথা বিঘ্ন সৃষ্টি না করতে।

এদিকে, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের সময় সংসদে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। সাধারণত টেবিল চাপড়ে সম্মতি জানানো হলেও কয়েকজন সংসদ সদস্য দুই হাত দিয়ে টেবিল চাপড়ে তাদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ দৃশ্য দেখে স্পিকারসহ উপস্থিত অনেকেই হাস্যরসে মেতে ওঠেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এদিন বিল সংক্রান্ত কাগজপত্র সময়মতো না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় নথি না পেলে সংসদ সদস্যদের পক্ষে সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করে বলেন, না বুঝে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া দায়িত্বশীলতার পরিপন্থী।

এ প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পাল্টা বক্তব্যে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পূর্বেই আলোচনার মাধ্যমে অনুমোদিত ছিল এবং বিরোধী দলও এতে সহযোগিতা করেছে।

অধিবেশনের আরেক পর্যায়ে এক সংসদ সদস্যের আচরণ নিয়ে স্পিকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংসদ হলো শৃঙ্খলার জায়গা, এখানে ধৈর্য ও নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তিনি সবাইকে সংসদের পরিবেশ সুস্থ ও কার্যকর রাখার আহ্বান জানান।

সবমিলিয়ে দিনের অধিবেশন ছিলো আইন প্রণয়ন, রাজনৈতিক মতবিনিময় এবং হালকা রসিকতার এক মিশ্র চিত্র, যা সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক ও প্রাণবন্ত দিকটিও সামনে নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top