খুলনার খালিশপুরে নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমানের বিশেষ ভাষণ
 

 

খুলনার জনসভায় তারেক রহমান: নারীদের অবজ্ঞাকারীরা কখনোই দেশপ্রেমিক হতে পারে না

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নারী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সোমবার দুপুরে খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে পেছনে ফেলে রেখে কোনোদিন প্রকৃত সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর মতে, যারা রাজনৈতিক সংকীর্ণতা কিংবা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের অবজ্ঞা করে এবং তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশ বা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যেখানে নাগরিকদের লিঙ্গ বা পরিচয় নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি।

খুলনার ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চল নিয়ে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এক সময় খুলনা ছিল দেশের প্রধান শিল্পনগরী, কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্যাস সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনায় এটি একটি মৃত নগরীতে পরিণত হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে ১৩ তারিখে সরকার গঠন করতে পারলে এই শিল্পনগরীকে আবারও প্রাণবন্ত ও কর্মচঞ্চল করে তোলা হবে। এই পুনরুজ্জীবিত শিল্প কারখানাগুলোতে শুধু পুরুষরাই নন, বরং নারীদের জন্যও ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীদের ঘরের কোণে বন্দি রাখার মানসিকতার কড়া সমালোচনা করে ইসলামের ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, স্বয়ং নবী কারীম (সা.)-এর সহধর্মিনী বিবি খাদিজা (রা.) একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন, যা প্রমাণ করে ইসলাম নারীদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার পথে কোনো বাধা নয়।

সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের নেতার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া এবং নারী বিদ্বেষী মন্তব্যের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ডিজিটাল যুগে এসে ‘আইডি হ্যাক’ হওয়ার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করা একটি নির্লজ্জ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা কোটি কোটি মানুষের সামনে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে পরে মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গেছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস দিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ভোট গণনায় সময়ক্ষেপণের যে কথা শোনা যাচ্ছে, সেটিকে তিনি অধিকার কেড়ে নেওয়ার নতুন কৌশল হিসেবে অভিহিত করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে সজাগ অবস্থান নিয়ে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করার জন্য তিনি দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top