সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঝটিকা ঢাকা সফরকে কোনো গভীর রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার না করার পরামর্শ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এই সফরটি ছিল একটি মানবিক ও ইতিবাচক শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। গত বুধবার যখন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকার মাটিতে প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শেষ সম্মান জানাতে সমবেত হয়েছিলেন, তখন এস জয়শঙ্করও সেই শোকাতুর আয়োজনের অংশ হতে এসেছিলেন। উপদেষ্টা মনে করেন, জয়শঙ্করের এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল প্রতিবেশী সুলভ একটি ‘ভালো জেসচার’, যার আড়ালে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা গূঢ় অর্থ খোঁজা নিরর্থক।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও পরিষ্কার করেছেন যে, এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর কোনো একান্ত বা আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। সেখানে উপস্থিত অন্যান্য বিদেশি অতিথিদের ভিড়ে কেবল সাধারণ কুশল বিনিময় সম্ভব হয়েছে, যেখানে রাজনীতির কোনো স্থান ছিল না। এমনকি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের করমর্দনকেও তিনি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচারের একটি অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সৌজন্যবোধের খাতিরে সবাই মেনে চলেন। তৌহিদ হোসেনের মতে, যেহেতু সব আলাপচারিতা অন্যদের সামনেই হয়েছে, তাই সেখানে দুই দেশের মধ্যকার কোনো অমীমাংসিত ইস্যু বা দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার বিন্দুমাত্র সুযোগ ছিল না।
দুই দেশের বর্তমান শীতল সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সফরের মাধ্যমে কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বরং বিষয়টি ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই সফরের মাধ্যমে রাজনৈতিক কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তার উত্তর আগামী দিনগুলোতেই পাওয়া যাবে। আপাতত এই সফরকে একটি শোকাবহ পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশের একজন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধির সাধারণ সৌজন্যবোধ হিসেবে গ্রহণ করাই সমীচীন। জয়শঙ্করের এই সংক্ষিপ্ত অবস্থানকে নিছক একটি শোকযাত্রায় অংশগ্রহণ হিসেবেই দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার, যেখানে রাজনীতির চেয়ে ব্যক্তিগত ও মানবিক শ্রদ্ধাবোধই ছিল মুখ্য।







