ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে এসে স্বশরীরে কারাগারে যান এবং আদালতের আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হন। মানুষের ক্ষমতা যতই থাকুক না কেন, আইনের হাত তার চেয়েও দীর্ঘ এবং আইনই তার গতিতে নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশিষ্ট শিল্পী মুস্তফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও আইনি বিচার
শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য ও দেশে ফেরা প্রসঙ্গে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন:
“উনি (শেখ হাসিনা) বলছেন—উনি ডিসেম্বরে আসবেন। আমিও বিশ্বাস করি এবং বিশ্বাস করতে চাই—উনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসুন এবং সরাসরি কারাগারে যান। উনি আইনি পথ ধরে হাঁটুক। আমরা একটা কথা বারবার বলি—মানুষের অনেক ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু আইনের ক্ষমতা তার থেকেও অনেক বেশি ও দীর্ঘ। আইন তার দীর্ঘ ও সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা যথাসময়ে প্রয়োগ করবে।”
বিচার বিভাগের বড় সংকট: ‘মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারক’
দেশের বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থার সমস্যা ও সংকট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান:
-
নানাবিধ কাঠামোগত সমস্যা: সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের দৃষ্টিতে বিচার বিভাগে নানা সমস্যা থাকতে পারে—কেউ দুর্নীতি, কেউ টাউট-বাটপারদের দৌরাত্ম্য আবার কেউ পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কথা বলবেন।
-
ডিভাইন জাস্টিস ও বিচারক: বিচার বিভাগের মূল সংকটের জায়গায় আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন:
“আমার কাছে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় সংকট হলো—মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। কেউ যদি বিচারকের পেশা বেছে নেন, তবে তাঁকে ধরে নিতে হবে এটি সাধারণ কোনো চাকরি নয়। এখানে তিনি বিধাতা প্রদত্ত সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ বা ‘ডিভাইন জাস্টিস’ দেওয়ার জন্য বসেছেন। বিচারকরা যে দিন থেকে এই বোধ নিয়ে এজলাসে বসবেন, সে দিনই বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং ন্যায়বিচারপূর্ণ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।”
স্মরণসভায় শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আইন পেশার বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।







