জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাস ও সাহিত্যে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলোকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীনভাবে উদযাপন করা উচিত, যাতে জাতীয় ইতিহাসে সব রাজনৈতিক পক্ষ নিজেদের অংশীদারিত্ব অনুভব করতে পারে।
আজ বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এনটিভি নিউজের অনুযায়ী দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় অনুষ্ঠানে দলীয় ন্যারেটিভ ও বিভাজন নিয়ে ক্ষোভ
জাতীয় দিবসে যেকোনো ধরনের সংকুচিত রাজনৈতিক চর্চা ও বিভাজনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন:
-
বিভ্রান্তি ও বিব্রতকর ঘটনা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মতো একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে কিছু বিব্রতকর ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত, সারাদেশে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে এ ধরনের বিভাজন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কাম্য নয়।
-
দলীয় বক্তব্য এড়ানোর তাগিদ: জাতীয় দিবসগুলোতে যদি কোনো একটি দলের ইতিহাস বা দলীয় ন্যারেটিভ প্রচার করা হয়, তবে বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়।
-
সর্বজনীন চর্চার আহ্বান: গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি। রাজপথে বা রাজনীতিতে ভিন্নমত ও সমালোচনা থাকলেও জাতীয় প্রশ্নে এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বজনীন ইতিহাস চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ও শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন
বক্তব্যের শেষে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা—একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কোমলমতি শিশু-কিশোরদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, পূর্বসূরিদের রক্ত ও মেধার বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মই নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে তুলে ধরবে।







