রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণে আয়োজিত বৈষম্যবিরোধী মিত্র ও সমমনা দলগুলোর সম্মানে নৈশভোজের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ১২ দলীয় জোটে তীব্র অসন্তোষ ও টানাপোড়েন চরম আকার ধারণ করেছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কুৎসা রটানো একাধিক বিতর্কিত ব্যক্তিকে নৈশভোজে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জোটের দুটি শরিক দলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ রাজপথের দীর্ঘদিনের মিত্রদের ক্ষোভের মুখে জোটের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) এবং বাংলাদেশ এলডিপি-কে ১২ দলীয় জোট থেকে বহিষ্কারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিতর্কিত কামাল প্রধান ও সৈনিক লীগ নেতার অংশগ্রহণ
গত সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) জাতীয়তাবাদী সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এলডিপির প্রতিনিধি হিসেবে নামভুক্ত হয়ে অংশ নেন কামাল প্রধান নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তি।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
-
কামাল প্রধানের বিতর্কিত ভূমিকা: কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যাংক ও আদালতের সাথে প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি, ভূমিদস্যুতা, মানব পাচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে কুৎসা রটানোর অভিযোগে অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে। এমনকি একাধিক মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। বিএনপি চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অতীতে চরম কটূক্তি করার নথিপত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।
-
সৈনিক লীগ নেতার উপস্থিতি: অন্যদিকে ‘গণদল’ নামক দলের ভাইস চেয়ারম্যান পরিচয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন কামাল উদ্দিন নামে অপর এক ব্যক্তি, যিনি মূলত চট্টগ্রাম মহানগর সৈনিক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।
জোট নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ ঘটনার সততা স্বীকার করে জানান:
“প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রতি দলের ৫ জনের নাম চাওয়া হয়েছিল। আমরা জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দারকে অবহিত করে তালিকা জমা দিই। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন সকালে জানা যায়, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসর ও কুখ্যাত অপরাধী কামাল প্রধান কীভাবে যেন এলডিপির তালিকায় ঢুকে চিঠি পেয়েছে। এলডিপির চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষণিক বলা হয়, এ ধরনের ব্যক্তিকে নিয়ে এলে গেট থেকেই ফেরত পাঠানো হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটনও বিগত আওয়ামী সরকারের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধেও তৎকালীন শাসনামলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ প্রমাণসহ পাওয়া গেছে। ফলে জোট প্রধানের নির্দেশে পিএনপি এবং বাংলাদেশ এলডিপিকে অবিলম্বে জোট থেকে বাদ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই জরুরি সভার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
বিএনপি নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ
দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেল-জুলুম, মামলা ও রাজপথে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন প্রেক্ষাপটে স্বৈরাচারের সহযোগীদের প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসার সুযোগ পাওয়াকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা।
তাঁদের মতে, এটি লাখ লাখ নেতাকর্মীর ত্যাগ ও আত্মদানের প্রতি চরম অবমাননাকর। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রবেশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দিক থেকেও মারাত্মক অশনিসংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







