ম্যানিলীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
 

 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন করিডোর ও জ্বালানি নিয়ে ম্যানিলীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, পরিবহন করিডোর স্থাপন, জ্বালানি এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট যৌথ সহযোগিতা জোরদারে বিস্তৃত বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলীয় আয়োজিত ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (ARF) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের সাইডলাইনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।

‘অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি’ গঠনের রূপরেখা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দীর্ঘদিনের বিদ্যমান কৌশলগত বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করা এবং দুই দেশের মধ্যে ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎভিত্তিক কমিউনিটি’ (China-Bangladesh Community with a Shared Future) গড়ে তোলার লক্ষ্যে সার্বিক সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সদিচ্ছা প্রকাশ করেন।

                       [বাংলাদেশ - চীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক]
                                     │
         ┌───────────────────────────┼───────────────────────────┐
         ▼                           ▼                           ▼
  [রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন]        [পরিবহন করিডোর]          [জ্বালানি ও বিনিয়োগ]
মিয়ানমারে নিরাপদ ফিরিয়ে     আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি           জ্বালানি নিরাপত্তা ও
নেওয়ার কূটনৈতিক উদ্যোগ     ও লজিস্টিকস জোরদার        অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব

বৈঠকের প্রধান প্রধান অগ্রাধিকার খাত

ম্যানিলার বৈঠকে দুই দেশের পক্ষ থেকে যেসব খাতকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:

  • রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে চীনের কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা কামনা করে বাংলাদেশ। চীন প্রতিনিধি দল এই সংকট নিরসনে গঠনমূলক সহযোগিতার পুনর্ব্যক্ত করে।

  • পরিবহন করিডোর ও কানেক্টিভিটি: আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে পরিবহন করিডোর প্রতিষ্ঠা, লজিস্টিক সাপোর্ট উন্নয়ন এবং ভৌত অবকাঠামো সংযোগ বা কানেক্টিভিটি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

  • জ্বালানি ও আর্থিক বিনিয়োগ: বাংলাদেশে চলমান জ্বালানি খাতের সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং শিল্প অবকাঠামোতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি

ম্যানিলার আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত এই দ্বিপক্ষীয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top