জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাংলামোটরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন (Brent Christensen)। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে দলটির প্রতিনিধিদল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও ভূরাজনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি দল
বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন:
-
এরিক গিলান — রাজনৈতিক উপদেষ্টা, মার্কিন দূতাবাস ঢাকা।
-
জেমস স্টুয়ার্ট — রাজনৈতিক সচিব, মার্কিন দূতাবাস ঢাকা।
এনসিপির পক্ষে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন:
-
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া — মুখপাত্র, এনসিপি।
-
আলাউদ্দীন মোহাম্মদ — ইনচার্জ, আন্তর্জাতিক সেল।
-
মনিরা শারমিন — সদস্য, আন্তর্জাতিক সেল।
-
নাভিদ নওরোজ শাহ্ — সদস্য, আন্তর্জাতিক সেল
এখানে তথ্যগুলো তালিকা আকারে তুলে ধরা হলো:
এনসিপি কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফর ও আলোচনার প্রধান বিষয়সমূহ
-
মার্কিন প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি: বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক সচিব জেমস স্টুয়ার্ট।
-
এনসিপির প্রতিনিধিত্ব: এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আন্তর্জাতিক সেলের ইনচার্জ আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এবং সদস্য মনিরা শারমিন ও নাভিদ নওরোজ শাহ্।
-
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন এনসিপি নেতারা। জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত চুক্তির বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেন এবং এটি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফল আনবে বলে মত প্রকাশ করেন।
-
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ: সংস্কার কার্যক্রমে গণভোটের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে কাজ করার সরকারি উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি।
-
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরামর্শ: গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার প্রক্রিয়া সফল করতে রাজনৈতিক সংলাপ, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগ ও আমেরিকার ব্যাখ্যা
বৈঠক শেষে এনসিপির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি (Trade Agreement) নিয়ে দেশের জনগণের মনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের বিষয়টি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন এনসিপি নেতারা।
এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর প্রতিনিধিদল চুক্তির বিভিন্ন ধারার ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। মার্কিন প্রতিনিধিদল আশ্বস্ত করে জানায় যে, এই চুক্তি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং উভয় দেশের সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে।
গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা
বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, গণভোটের রায় ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অগ্রগতির বিষয়টিও উঠে আসে।
-
এনসিপির উদ্বেগ: এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায়কে যথাযথ প্রাধান্য না দিয়ে কেবল সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংস্কার চাপিয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা নিয়ে গণমনে সংশয় তৈরি হচ্ছে।
-
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য: রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুস্থ রাজনৈতিক সংলাপ এবং সব প্রধান রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতা ও আশাবাদ
বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বহুপক্ষীয় স্থিতিশীলতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গঠনমূলক সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
পরবর্তীতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বৈঠকের সার্বিক দিক নিয়ে ব্রিফিং করেন।







